গাঞ্জিয়া চাল ঔষধি গুণযুক্ত। এটি একটি দেশি জাতের লাল চাল, মূলত বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে বিশেষ করে গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, রংপুর ইত্যাদি এলাকায় চাষ হয়। এই চালের ধান চাষে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের তেমন প্রয়োজন হয় না। এ চালের ভাত আপনাকে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হ্নদরোগ, স্থুলতা, কোষ্ঠকাঠিন্য সহ নানাবিধ রোগ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে এবং যারা ইতিমধ্যে এসমস্ত রোগে আক্রান্ত তাদের রোগ নিয়ন্ত্রণ করে এবং ক্রমশ সুস্থ হতে সাহায্য করে। গাঞ্জিয়া একটি লো গ্লাইসোমিক ইনডেক্স ফুড এবং নানাবিধ ভিটামিন ও মিনারেলে ভরপুর স্বাস্থ্যসম্মত খাবার।
গাঞ্জিয়া লাল চালের উপকারিতা:
উচ্চ ফাইবার যুক্ত: এতে প্রচুর ফাইবার থাকায় হজমে সহায়ক এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী: গাঞ্জিয়া লাল চালে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম, ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ দ্রুত বাড়ায় না। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আদর্শ।
হার্টের স্বাস্থ্য রক্ষা করে: ম্যাগনেশিয়াম, পটাসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উপস্থিতি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
রক্তের গুণগত মান উন্নত করে: লাল চালের অ্যান্থোসায়ানিন রক্তে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে এবং রক্ত শুদ্ধ রাখে।
শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক: এতে থাকা প্রাকৃতিক কার্বোহাইড্রেট দেহকে শক্তি যোগায়, যারা দৈহিক পরিশ্রম বেশি করেন তাদের জন্য উপযোগী।
প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ: প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
গাঞ্জিয়া লাল চাল কার জন্য প্রয়োজন:
ডায়াবেটিস রোগী যারা রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান।
হৃদরোগে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি যারা স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে চান।
শিশু ও বৃদ্ধরা সহজ হজমের এবং পুষ্টিকর খাবার পেতে।
যারা ওজন কমাতে চান তারা উচ্চ ফাইবার যুক্ত খাদ্য খাওয়ার জন্য।
শ্রমজীবী মানুষ যারা দীর্ঘক্ষণ পরিশ্রম করেন এবং টেকসই শক্তি চান।
সাধারণ স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ যারা কেমিক্যালমুক্ত, প্রাকৃতিক ও দেশি খাবার খেতে চান।


